নীলফামারীতে যুব দিবস পালন - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
নীলফামারীতে যুব দিবস পালন

নীলফামারীতে যুব দিবস পালন

নীলফামারীতে যুব দিবস পালন

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলামঃ

‘ভিন্ন প্রেক্ষাপট, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা’ স্লোগানে নীলফামারীতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে (১২ আগস্ট) জেলা যুব ভবনের সভাকক্ষে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ে উপ-পরিচালক দিলগীর আলম। বক্তব্য দেন সহকারী পরিচালক হাসান আলী ও প্রশিক্ষণ বিভাগের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর মাহমুদ  আলম। যুব বিভাগের কর্মকর্তা ছাড়াও প্রশিক্ষণার্থীরা এতে অংশ নেন।


নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো.আলী হোসেন ফকির

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ আলমকে গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে আইজিপি সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত ত্রৈমাসিক সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা উপজেলায় একাধিক নারীকে হামলা করে আহত ও হত্যার ঘটনা ঘটে। একই ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটে দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলাতেও। এসব ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নওগাঁ জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

 

পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ১১ জুন গাজীপুর থেকে আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোর্শেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি পুলিশের কাছে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে এ আইজিপি সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ সম্মাননা নওগাঁ জেলা পুলিশের সদস্যদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধ দমন ও রহস্য উদ্ঘাটনে তাদের তৎপরতা আরও বাড়াবে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো.আলী হোসেন ফকির

রাজবাড়ী শহরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ জাকিয়া সুলতানাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।

 

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারেন। পরে আরও কয়েক যুবক এগিয়ে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি মারতে থাকেন।

 

ভুক্তভোগী জাকিয়া রাজবাড়ী কাপড় বাজারের ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মচারী বৃষ্টি হিসাব প্রদান না করে অন্য একটি দোকানে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর থেকেই তাকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

 

অন্যদিকে, রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ জাকিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা দাবি করেন, জাকিয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মিথ্যা, নানা রকম অভিযোগ তুলেছেন।

 

শনিবার তিনি কয়েকশ মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হলে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে তারা সবাই চলেও যায়, কারা লাথি মেরেছে তা আমি জানি না, পরে বিষয়টি জেনেছি।

 

জাকিয়া সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, শনিবার যখন পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন পেছন থেকে অজ্ঞাত কয়েক যুবক আমার ওপর হামলা চালায়। যারা লাথি মেরেছে, তাদের কাউকে আমি চিনি না। তবে আমি তাদের খোঁজার চেষ্টা করছি। আপনাকে যারা লাথি মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে আপনি আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করব। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কর্মচারী বৃষ্টি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে লাথি

আট বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই নীলফামারী মেডিকেল কলেজে

কলেজে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালকের

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম:

প্রতিষ্ঠার আট বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস পায়নি নীলফামারী মেডিকেল কলেজ। বর্তমানে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মিত অবকাঠামোতে চলছে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম। যদিও সেখানে শ্রেণিকক্ষ, হোস্টেলসহ প্রয়োজনীয় কিছু সুবিধা রয়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদে মেডিকেল কলেজের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন স্থায়ী ক্যাম্পাস ও নিজস্ব অবকাঠামো। কলেজটির প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও নকশার কাজ এগোলেও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কলেজের নিজস্ব তথ্যেও প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের জন্য ২৮ একর জমির কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যেই রোববার (৩০ আগস্ট) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কলেজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে সকালে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কলেজের হলরুমে আলোচনা সভা ও দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, “শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ দুটি খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ শুধু চিকিৎসক তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়; একটি অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস, একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নীলফামারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৯ সালে। বর্তমানে কলেজটি নটখানা এলাকায় নির্মিত ম্যাটসের ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। কলেজের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ও একাডেমিক সুবিধা রয়েছে এবং নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নীলফামারী মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করে বলেছিলেন, কলেজটির নিজস্ব উপযুক্ত অবকাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। তবে অন্য কয়েকটি নতুন মেডিকেল কলেজের তুলনায় বর্তমানে ব্যবহৃত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ও একাডেমিক সুবিধা তুলনামূলক ভালো রয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে তুলে ধরেছিলেন।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নীলফামারীসহ স্থায়ী ক্যাম্পাসবিহীন সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সরকারের সংশোধিত পরিকল্পনায় ছয়টি মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন ছয়টি কলেজ অগ্রাধিকার পাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেডিকেল শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শুধু শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্যক্রম যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল সুবিধা, আধুনিক ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার, আবাসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত একাডেমিক পরিবেশ। ফলে দীর্ঘদিন অস্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করে দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস ও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা) ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. মাছুদুর রহমান এবং পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম।

এ ছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক ও ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ড্যাবের আহ্বায়ক ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. জাবেদ আখতার, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রবিউল ইসলাম শাহ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ, রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. জহুরুল হক, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়ার মুর্শেদ আলম, নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, ড্যাব নীলফামারীর আহ্বায়ক ডা. মো. সোহেলুর রহমান সোহেল ও সদস্যসচিব ডা. রেদোয়ান জুবায়ের রিয়াদসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী আয়োজনে কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৮ম কলেজ ডের কর্মসূচি শেষ হয়।

আট বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই নীলফামারী মেডিকেল কলেজে কলেজে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালকের

মাইক্রোবাসকে সাইড না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে মাগুরা মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুজ্জামান নয়নের বিরুদ্ধে।

 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে মাগুরা শহরের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

ইমরান হোসেন মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কন্ট্রোলরুমে কর্মরত বলে জানা গেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মোটরসাইকেলে বসে থাকা পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেনকে দুই পুলিশ কর্মকর্তার সামনেই চড়-থাপ্পড় মারছেন নাইমুজ্জামান নয়ন। একই সময়ে নিজের মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন তিনি।

 

এর আগে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, নয়ন মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড এলাকার লোকজনকে সেখানে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং পুলিশ সদস্য ইমরানের মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নিচ্ছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা মাগুরা সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শরিফুল ও এএসআই মাসুদ নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাবি নিতে বাধা দেন।

 

একপর্যায়ে নয়নের সঙ্গে থাকা মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন ওই দুই এএসআইয়ের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে নয়ন মোটরসাইকেলে বসে থাকা ইমরানকে পরপর দুটি থাপ্পড় মারেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

 

১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শুক্রবার রাত থেকে বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে পুলিশের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

 

ঘটনার পর সন্ধ্যায় নাইমুজ্জামান নয়নকে সদর থানায় নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে কিছু সময় পর মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলসহ কয়েকজন নেতা থানায় উপস্থিত হয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

 

তবে নয়নকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মাগুরা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

হামলার শিকার পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেনের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

 

অভিযোগের বিষয়ে নাইমুজ্জামান নয়ন বলেন, ঠিকাদারি কাজ শেষে মাইক্রোবাস চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। শহরের ঢাকা রোডের কাঁচাবাজার এলাকায় পৌঁছালে যানজটে আটকা পড়ি। সামনে থাকা ওই পুলিশ সদস্যকে বারবার হর্ন দিলেও তিনি সাইড দেননি। এ নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়। তিনি বাজে শব্দ করায় তার মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে একটি থাপ্পড় দিয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, মায়ের অসুস্থতা নিয়ে আমি বেশ উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলাম। সারাদিন না খেয়ে কাজ শেষে ফেরার সময় রাস্তায় সাইড না পেয়ে মেজাজ ঠিক রাখতে পারিনি। তবে থাপ্পড় মারা ভুল হয়েছে।

 

এদিকে প্রকাশ্যে একজন পুলিশ সদস্যকে চড়-থাপ্পড় মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে পুলিশের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

মাগুরায় পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে চড় মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতির

শরণখোলায় মাদ্রাসার ছাত্রকে গুরুতর মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

মামুন হাওলাদার

 

শরণখোলা উপজেলা সদরে অবস্থিত দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার ছাত্র আজিজুল (৭) শিক্ষকের মারধরে গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

শরণখোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশু আজিজুলের দাদী সেলিনা বেগম বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সন্ধ্যায় কান্না জড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, তার নাতি আজিজুল উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় আবাসিক ছাত্র হিসেবে লেখা পড়া করে। গত ২৫ আগষ্ট আজিজুল পড়া না পারায় মাদ্রাসার শিক্ষক কামরুল ইসলাম তাকে বেদম মারধর করে। মারধরে আজিজুলের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় কালো কালো দাগের সৃষ্টি হয়েছে। শরীরে বেদনার কারণে আজিজুল রাতে ঘুমাতে পারেনা বলে তাকে বৃহস্পতিবার দুপুর শরণখোলা হাসপাতালে ভর্তি করেছি। শিশু আজিজুল শরণখোলা উপজেলার পশ্চিম খাদা গ্রামের সুজন হাওলাদার ও মারুফা বেগম দম্পতির পুত্র। কর্মসূত্রে আজিজুলের পিতা মাতা ঢাকায় থাকে। বাড়ীতে দাদী সেলিনা বেগম আজিজুলের দেখা শোনা করে । দাদী সেলিনা বেগম শিক্ষক কামরুলের বিচার দাবী করেন।

 

দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সিফাতুল্লাহ বলেন, শিশু ছাত্রকে মারধরের ঘটনাটি অনাকাংখিত ও দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রের অভিভাবকদের সাথে মিমাংসা করার কথা চলছে।

অন্যদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরার উপর হামলা চালায় ওই মাদ্রাসার শিক্ষক রাজ্জাক

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, শিশু আজিজুলকে বেলা দেড়টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুর শরীরে বিভিন্ন স্থানে মারধরের কালো কালো দাগ সৃষ্টি হয়েছে।

 

শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম বলেন, শিক্ষকের মারধরে শিশু ছাত্র নির্যাতনের খবর পেয়ে হাসপাতালে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শরণখোলায় মাদ্রাসার ছাত্রকে গুরুতর মারধরের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। 

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

অভিযোগপত্রভুক্ত অপর আসামি হলেন আমান উল্লাহর ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া (৩২)।

 

তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে প্রধান আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএ ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিলে যাওয়ার পর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

 

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনা জেলা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ।

 

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বলেন, আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি আদালতে পৌঁছেছে। ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের ফলাফলে নবজাতকের সঙ্গে আমান উল্লাহ মাহমুদীর পিতৃত্বের সম্ভাবনা ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত হয়েছে।

 

এর আগে আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোম থেকে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। এর আগে গত ১৭ মে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই ১১ বছর বয়সী শিশু একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আমান উল্লাহ শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

 

পরে গত ৭ মে আদালত আমান উল্লাহকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মা আদালতে সুরক্ষার আবেদন করেন। পরে ১২ মে আদালত শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে মামলাটির তদন্তপর্ব শেষ হয়েছে। এখন অভিযোগপত্রের ওপর আদালতের পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শেষে মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে এগিয়ে যাবে।

১১ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ ণ মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহসহ দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো.আলী হোসেন ফকির

 

মোঃ সাইদুল ইসলাম হেলাল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ আলমকে গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে আইজিপি সম্মাননা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত ত্রৈমাসিক সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছী ও পত্নীতলা উপজেলায় একাধিক নারীকে হামলা করে আহত ও হত্যার ঘটনা ঘটে। একই ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটে দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলাতেও। এসব ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নওগাঁ জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

 

পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে গত ১১ জুন গাজীপুর থেকে আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোর্শেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি পুলিশের কাছে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে এ আইজিপি সম্মাননা প্রদান করা হয়।

 

জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ সম্মাননা নওগাঁ জেলা পুলিশের সদস্যদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধ দমন ও রহস্য উদ্ঘাটনে তাদের তৎপরতা আরও বাড়াবে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের হাতে সম্মাননা ট্রফি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো.আলী হোসেন ফকির

বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুলের শুভেচ্ছা বার্ত।

 

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাভার থানা বিএনপির সকল নেতাকর্মী, সমর্থক ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুল।

 

এক শুভেচ্ছা বার্তায় সাইফুদ্দিন সাইফুল বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জন্মলগ্ন থেকেই এ দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে দলটি আজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে এদের উন্নয়নের রোল মডেল হবে বলে আশা ব্যক্তয় করেন।

 

সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাভার এলাকার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দলের সকল কঠিন সময়ে সাভারের নেতাকর্মীরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন,

 

তিনি সাভার থানা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করার আহ্বান জানান।

বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাভার থানা বিএনপির সভাপতি সাইফুদ্দিন সাইফুলের শুভেচ্ছা বার্তা

রাজবাড়ী শহরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ জাকিয়া সুলতানাকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।

 

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারেন। পরে আরও কয়েক যুবক এগিয়ে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি মারতে থাকেন।

 

ভুক্তভোগী জাকিয়া রাজবাড়ী কাপড় বাজারের ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক কর্মচারী বৃষ্টি হিসাব প্রদান না করে অন্য একটি দোকানে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানানোর পর থেকেই তাকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

 

অন্যদিকে, রাজবাড়ী বাজার কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ জাকিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা দাবি করেন, জাকিয়া ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মিথ্যা, নানা রকম অভিযোগ তুলেছেন।

 

শনিবার তিনি কয়েকশ মানুষ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হলে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরে তারা সবাই চলেও যায়, কারা লাথি মেরেছে তা আমি জানি না, পরে বিষয়টি জেনেছি।

 

জাকিয়া সুলতানা যুগান্তরকে বলেন, শনিবার যখন পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছিল তখন পেছন থেকে অজ্ঞাত কয়েক যুবক আমার ওপর হামলা চালায়। যারা লাথি মেরেছে, তাদের কাউকে আমি চিনি না। তবে আমি তাদের খোঁজার চেষ্টা করছি। আপনাকে যারা লাথি মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে আপনি আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেবেন কিনা-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করব। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কর্মচারী বৃষ্টি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে বাজারের ব্যবসায়ীরা জাকিয়া সুলতানাকে ঘিরে ধরেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।

রাজবাড়ীতে পুলিশের সামনে নারী উদ্যোক্তাকে লাথি

সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্যোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

 

রবিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে নেপালি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভয়াবহ দুর্যোগে নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

 

উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, নেপালে সংঘটিত ভয়াবহ দুর্যোগের ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করছি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আপনারা যেমন ব্যথিত ও মর্মাহত, আমরাও তেমনি কষ্ট পেয়েছি। নেপাল আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। আপনাদের এই দুঃসময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে।

 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা নেপাল থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে এসেছেন। আপনারা শুধু বিদেশি শিক্ষার্থী নন, আমাদের অতিথি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য। তাই সংকটময় সময়ে আপনাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। নেপালে থাকা পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে আপনারা উদ্বিগ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। দেশে যোগাযোগে কোনো সমস্যা হলে, সহায়তার প্রয়োজন হলে কিংবা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যায় পড়লে অবশ্যই আমাদের জানাবেন। ছাত্র উপদেষ্টা দপ্তর আপনাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতায় পাশে থাকবে।

 

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম জানান, শিক্ষার্থীরা যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের জানালে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। তাদের সার্বিক বিষয়ে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।

 

এ সময় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, নেপাল আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। আপনারা পরিবার ও আত্মীয়স্বজন ছেড়ে এখানে পড়াশোনা করতে এসেছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে যারা আছি, আমরা আপনাদের অভিভাবকের মতো দায়িত্ব নিতে চাই। নেপালে ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক মহাবিপর্যয়ের মধ্যে আপনাদের পড়াশোনা বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানার জন্যই আপনাদের সঙ্গে কথা বলা। আমরা আমাদের জায়গা থেকে আশ্বস্ত করতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে আছে এবং যেকোনো প্রয়োজনে আপনারা আমাদের সহযোগিতা পাবেন।

 

নেপালি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, নেপালে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমরাও আপনাদের মতো ব্যথিত। আপনারা পরিবার ও স্বজনদের ছেড়ে দূরদেশে পড়াশোনা করছেন। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপনাদের অভিভাবক হিসেবে সবসময় পাশে রয়েছে। যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এই সংকটময় সময়ে আপনারা নিজেদের একা মনে করবেন না; বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে।

 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, ডরমিটরির পরিচালক ড. মো. আবু বকর পিকে, ডরমিটরির ওয়ার্ডেন, সহকারী প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২২ জন নেপালি শিক্ষার্থী।

রাবিতে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার আশ্বাস উপাচার্যের

শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা অর্জনে সরকার শিক্ষক নিয়োগ দেবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌নের স‌ঙ্গে সৌজন্য সাক্ষা‌তের পর গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি।

 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপ‌দেষ্টা মাহাদী আমি‌নের নেতৃ‌ত্বে সম্প্রতি আমা‌দের এক‌টি প্রতি‌নি‌ধিদল চীন সফর ক‌রে‌ছেন। আমরা শিক্ষা খা‌তে চী‌নের স‌ঙ্গে ক‌য়েক‌টি সম‌ঝোতা স্মারক সই ক‌রে‌ছি। শিক্ষা খা‌তে আমরা চী‌নের স‌ঙ্গে সম্পর্ক গ‌ড়ে তুল‌তে চাই। তা‌দের ইন্ড্রা‌স্টি ও একা‌ডে‌মিয়ার স‌ঙ্গে সম্পর্ক খুব শ‌ক্তিশালী। তা‌দের শিক্ষার স‌ঙ্গে ইন্ড্রা‌স্টির যে সহ‌যো‌গিতা যে ম‌ডেল র‌য়ে‌ছে, সে‌টি আমরা অনুসরণ কর‌তে চাই।

 

তিনি ব‌লেন, আমা‌দের প্রতি‌নি‌ধিদ‌লের চীন সফর শে‌ষে শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতায় বিশেষ সম্ভাবনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এজন্য ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগ করবে সরকার। ভিসা জটিলতা দূর করতে মন্ত্রিপরিষদে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখাতে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার

আট বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই নীলফামারী মেডিকেল কলেজে

কলেজে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালকের

 

স্টাফ রিপোর্টার

মাইদুল ইসলাম:

প্রতিষ্ঠার আট বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস পায়নি নীলফামারী মেডিকেল কলেজ। বর্তমানে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্মিত অবকাঠামোতে চলছে কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম। যদিও সেখানে শ্রেণিকক্ষ, হোস্টেলসহ প্রয়োজনীয় কিছু সুবিধা রয়েছে, তবু দীর্ঘমেয়াদে মেডিকেল কলেজের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন স্থায়ী ক্যাম্পাস ও নিজস্ব অবকাঠামো। কলেজটির প্রস্তাবিত স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও নকশার কাজ এগোলেও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কলেজের নিজস্ব তথ্যেও প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজের জন্য ২৮ একর জমির কথা উল্লেখ রয়েছে।

এ অবস্থার মধ্যেই রোববার (৩০ আগস্ট) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কলেজ ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে সকালে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কলেজের হলরুমে আলোচনা সভা ও দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, “শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ দুটি খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, একটি মেডিকেল কলেজ শুধু চিকিৎসক তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়; একটি অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নীলফামারী মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস, একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নীলফামারী মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৯ সালে। বর্তমানে কলেজটি নটখানা এলাকায় নির্মিত ম্যাটসের ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। কলেজের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ও একাডেমিক সুবিধা রয়েছে এবং নীলফামারী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নীলফামারী মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করে বলেছিলেন, কলেজটির নিজস্ব উপযুক্ত অবকাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। তবে অন্য কয়েকটি নতুন মেডিকেল কলেজের তুলনায় বর্তমানে ব্যবহৃত ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ও একাডেমিক সুবিধা তুলনামূলক ভালো রয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে তুলে ধরেছিলেন।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনায় নীলফামারীসহ স্থায়ী ক্যাম্পাসবিহীন সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সরকারের সংশোধিত পরিকল্পনায় ছয়টি মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন ছয়টি কলেজ অগ্রাধিকার পাবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেডিকেল শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে শুধু শ্রেণিকক্ষ ও পাঠ্যক্রম যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল সুবিধা, আধুনিক ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার, আবাসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত একাডেমিক পরিবেশ। ফলে দীর্ঘদিন অস্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভর না করে দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাস ও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা) ও প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. মাছুদুর রহমান এবং পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাকি মো. জাকিউল আলম।

এ ছাড়া ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির আহ্বায়ক ও ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়, রংপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ড্যাবের আহ্বায়ক ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. জাবেদ আখতার, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে নীলফামারী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রবিউল ইসলাম শাহ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকন্দ, রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মো. জহুরুল হক, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. সারোয়ার মুর্শেদ আলম, নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, ড্যাব নীলফামারীর আহ্বায়ক ডা. মো. সোহেলুর রহমান সোহেল ও সদস্যসচিব ডা. রেদোয়ান জুবায়ের রিয়াদসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী আয়োজনে কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৮ম কলেজ ডের কর্মসূচি শেষ হয়।

আট বছরেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই নীলফামারী মেডিকেল কলেজে কলেজে দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস স্বাস্থ্য শিক্ষা মহাপরিচালকের

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের জেলা কার্যালয় উদ্বোধন।

 

মোঃ আশরাফুল ইসলাস

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড জেলা শাখার নতুন কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের আশ্রমপাড়া এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যালয়টির উদ্বোধন করা হয়।

নতুন কার্যালয় শুভ উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম।

কার্যালয় উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আহ্বায়ক মীর জাহিদের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা নূর করিম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারেক আদনান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম রনিসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহস, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। তাঁদের অবদান কখনো ভোলার নয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

 

বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

 

এ সময় বক্তারা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নতুন কার্যালয়ের মাধ্যমে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও বেগবান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।

 

অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোচনা সভা শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের জেলা কার্যালয় উদ্বোধন

পরিবহন নেই, চিকিৎসাসেবাও নেই। অথচ এসব খাতসহ সরকারি পরিপত্রে অনুমোদন না থাকা বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অনুমোদিত কিছু খাতেও একাধিকবার অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৬৭ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

 

সরকারি পরিপত্র উপেক্ষা করে পরিবহন, আইসিটি, চিকিৎসা, অতিথি শিক্ষক, উন্নয়ন তহবিল, পরিচয়পত্র, ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি এবং নিরাপত্তা ও কর্মচারী খাতে এসব অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের ৩৭.০০.০০০০.১৫১.০৯.০০৩.২৩.১২৩ নম্বর স্মারকে ‘সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিকট হতে আদায়কৃত অর্থের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত সংশোধিত নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়। ওই পরিপত্রের তফসিল ‘খ’ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কলেজটিতে অনুমোদন না থাকা কয়েকটি খাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত কিছু খাতেও একাধিকবার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।

 

কলেজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন ২ হাজার ১৪৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কলা ও বাণিজ্য বিভাগের ১ হাজার ৪৬৩ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগের ৬৮৫ জন। সম্মান, ডিগ্রি, মাস্টার্স ও প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স মিলিয়ে এইচএসসি বাদে কলেজটিতে শিক্ষার্থী রয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ২

 

২২ জন।

পরিবহন নেই, তবু ২২ লাখ টাকা

অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে পরিবহন ফি নিয়ে। পরিপত্র অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা থাকলেই কেবল এ খাতে অর্থ আদায় করা যাবে। কিন্তু কলেজে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা না থাকার পরও তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এ হিসাবে কলেজের প্রায় ১১ হাজার ২২২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বছরে প্রায় ২২ লাখ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা পরিবহন ফি আদায় করা হচ্ছে বলে হিসাব পাওয়া গেছে।

 

অনুমোদন নেই, তবুও আইসিটি ফি

সরকারি পরিপত্রে ‘আইসিটি ফি’ নামে কোনো অনুমোদিত খাত না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১২০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন বর্ষ ও কোর্স মিলিয়ে এ খাতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪০ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাস নেই, তবু পরিবহন ফি, আছে ‘অতিথি শিক্ষক ফি’—বছরে অতিরিক্ত ৬৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন মাহদি, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল এবং এনসিপি’র সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ সময় এনসিপি নেতৃবৃন্দ জামিয়া ইউনুছিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহতামিম ও জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা মুবারাকুল্লাহ, জামিয়ার মুহাদ্দিস ও জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মারুফ কাসেমী, জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ উদ্দিন আফতাবী এবং জেলা হেফাজতে ইসলামের কোষাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাফিজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

 

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মহব্বত অটুট রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসাশিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন এনসিপি নেতারা

বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তর অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর একটি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত এনসিপি কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগরের সাংগঠনিক সমন্বয় সভা রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

 

সারজিস বলেন, ৬ মাস যেতে না যেতেই মানুষ কিন্তু বিএনপিকে নিয়ে অন্য কিছু চিন্তা করতে শুরু করেছে। আমরা সেই তুলনা এখনি করতে চাই না। আমরা বিএনপিকে আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে ১৪’শ এর বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়ে আরেকটা গণহত্যা ঘটিয়েছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণহত্যাকারী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে খুনী। আওয়ামী লীগ হচ্ছে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একটা নরপিশাচ। তাই আমরা বিএনপিকে এখনই আওয়ামী লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না। আগামীতেও করতে চাই না।

আমরা বিএনপিকে এখনই আ. লীগের সাথে তুলনা করতে চাই না: সারজিস আলম

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d